মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে মিষ্টি বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১২ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দলটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তার নাম চূড়ান্ত করা হয়।
এ খবর তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ, বিএনপি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোতে আনন্দ উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত তার নিজ জেলার মানুষ। শহর থেকে গ্রাম—বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের আবহ।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতিতে এসে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে। দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন এবং নানা রাজনৈতিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নকে তার রাজনৈতিক ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
তার মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নানা পোস্ট দিচ্ছেন জেলার মানুষ।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ‘তার ত্যাগ এবং এই স্বীকৃতি আমাদের জেলা ও দেশের সম্মান। তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হওয়া তার প্রাপ্য ছিল।’
তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি
ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী থেকে বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েছেন মির্জা আলমগীর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও ছিলেন সক্রিয়। পরে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে, এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে দায়িত্ব পান ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ফখরুলের আসনে পরবর্তী প্রার্থী যারা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তার উত্তরসূরী হিসেবে আলোচনায় আছেন, মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। বাবার আসনে নির্বাচন করতে পারেন বলে মনে করেন অনেকেই। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক।
এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় তিনি। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলামের ছোট ভাই।
এমআই/টিএ