রেকর্ড বৃষ্টিতে জাপানে নিহত ৪, নারিতা বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৮ এএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
জাপানের রাজধানী টোকিও ও আশপাশের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বন্যা ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাত হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সড়ক ও রেলপথ ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে টোকিওর পাশের চিবা প্রদেশে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে সেখানে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে আবহাওয়াবিদরা চিবা অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেন। জাপানে এই অঞ্চলের জন্য প্রথমবারের মতো এমন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিবা প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এতে নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সড়ক ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। জাপানের টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চিবা, ইবারাকি ও তোচিগি প্রদেশের প্রায় ২৭ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ভারি বৃষ্টি ও দুর্যোগের কারণে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে অন্তত একজন পানিতে ডুবে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। দুর্যোগ মোকাবেলা, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাসদস্য পাঠানো হয়েছে। চিবা প্রদেশের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। অতীতে তিনি অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি। জাপান আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি নজিরবিহীন মাত্রার ভারি বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে।
বন্যা ও পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় সাত হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন বলে বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, শুক্রবার ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কিছু ফ্লাইটে দেরি হতে পারে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নেই। আটকা পড়া যাত্রীদের সহায়তায় বিমানবন্দরের কর্মীরা পানি, খাবার ও ঘুমানোর ব্যাগ বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন।
ভারি বৃষ্টির কারণে চিবা প্রদেশের প্রধান মহাসড়কগুলোর বেশ কয়েকটি এখনো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে নারিতা বিমানবন্দর থেকে টোকিওর কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কও রয়েছে। নারিতা বিমানবন্দর জাপানের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক পরিবহনকেন্দ্র। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় গাড়িচালকদের বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে বলে মহাসড়ক পরিচালনাকারী সংস্থা নেক্সকো ইস্ট জানিয়েছে। শুক্রবার সকালেও চিবার কয়েকটি রেলসেবা বন্ধ ছিল। তবে নারিতা থেকে টোকিওগামী কিছু ট্রেন আবার চলাচল শুরু করেছে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় চিবা স্টেশনেও শত শত মানুষ আটকা পড়েন।
সেখানে দুর্ভোগের চিত্র দেখেছেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক। এনএইচকের প্রতিবেদনে জানা যায়, চিবার বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন। কাশিওয়া শহরে বন্যার পানি গাড়ির হেডলাইট পর্যন্ত উঠে যাওয়ার ছবিও সম্প্রচার করেছে তারা। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চিবা ও আশপাশের এলাকায় বহু মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও পানির নিচে চলে গেছে রাস্তা ও যানবাহন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে ভারি বৃষ্টি, বন্যা, তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় বেশি ঘটছে এবং দীর্ঘস্থায়ী ও আরো তীব্র হচ্ছে।
কেএন/এসএন