দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সিলেবাসে বড় পরিবর্তন, বাদ ‘দিল্লি সালতানাত’
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৫ পিএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দিল্লি সালতানাতের ওপর বিশেষায়িত কোর্স বাদ দিয়েছে দেশটির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন প্রকাশিত স্নাতকোত্তর সিলেবাসে তৃতীয় সেমিস্টারের এই কোর্সটি রাখা হয়নি। একই সঙ্গে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের আরও কয়েকটি প্রস্তাবিত কোর্সও চূড়ান্ত সিলেবাস থেকে বাদ পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ‘দ্য দিল্লি সালতানাত: স্ট্রাকচারস অব অথরিটি ইন মিডিয়েভাল নর্থ ইন্ডিয়া (১৩শ-১৪শ শতাব্দী)’ নামের এই কোর্সটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ইতিহাসের তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ানো হতো।
এই কোর্সে মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো এবং মধ্যযুগীয় উত্তর ভারতে কীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হতো—এসব বিষয় পড়ানো হতো। পাশাপাশি ১৩শ ও ১৪শ শতাব্দীর রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশও এতে আলোচিত হতো।
দিল্লি সালতানাতের ওপর এই কোর্সটি কয়েক দশক ধরে মধ্যযুগীয় ভারত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়ে আসছিল। ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে বিশেষভাবে তুলে ধরার কারণে কোর্সটি বাদ দেয়ার বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে।
এনপিটিভি বলছে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এই পাঠটি ছিল মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের একটি বিশেষায়িত ও বিষয়ভিত্তিক কোর্স। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইতিহাস বিভাগের এক অধ্যাপক বলেছেন, এটিকে স্নাতক পর্যায়ে পড়ানো দিল্লি সালতানাত-সংক্রান্ত পাঠের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।
স্নাতক পর্যায়ের কোর্সটি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত এবং ভারতীয় ইতিহাসের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠটিতে আরও নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সময় ও বিষয়কে গভীরভাবে পড়ানো হতো।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ‘হিস্ট্রি অব নর্থ ইন্ডিয়া, প্রায় ১৪০০-১৫৫০’ নামের আরেকটি পাঠের ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন করা হয়েছে। এটিও তৃতীয় সেমিস্টারের সিলেবাস থেকে বাদ পড়েছে।
শুধু মধ্যযুগীয় ইতিহাসের কোর্সেই পরিবর্তন আনা হয়নি। তৃতীয় সেমিস্টারের চূড়ান্ত সিলেবাসে আরও যেসব প্রস্তাবিত পাঠ রাখা হয়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ’, ‘পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিস ইন অ্যানশিয়েন্ট ইন্ডিয়া’ এবং ‘রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন অ্যানশিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিটারেচার’।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ মোট ৩৮টি ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক ইলেকটিভ (ডিএসই) পাঠের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত তৃতীয় সেমিস্টারের সিলেবাসে রাখা হয়েছে মাত্র ১৬টি। অর্থাৎ প্রস্তাবিত ২২টি পাঠ চূড়ান্ত সিলেবাসের বাইরে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের নথিতে বলা হয়েছে, সংশোধিত স্নাতকোত্তর কর্মসূচিটি এনইপি ২০২০-এর আওতায় পিজিসিএফ ২০২৪ অনুসারে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে আরও কয়েকটি প্রস্তাবিত কোর্সকে এখনও ‘আলোচনাধীন’ অথবা ‘আলোচনা হয়নি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিলেবাসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ৭ আগস্ট।
এসএন