© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘ইরান খুব দুষ্ট’, মার্কিনিদের বেশি দামে তেল কিনতে বললেন ট্রাম্প

শেয়ার করুন:
‘ইরান খুব দুষ্ট’, মার্কিনিদের বেশি দামে তেল কিনতে বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১১ পিএম | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নিতে ইরানের আহ্বানের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।

ইরানকে ‘খুব দুষ্ট’ দেশ বলে বর্ণনা করে তিনি মার্কিনিদের ‘সামান্য একটু বেশি’ দামে তেল কেনার কথাও বলেছেন।

রয়টার্স লিখেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। শান্তি আলোচনায়ও অগ্রগতি নেই। ফলে গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

শনিবার ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “শুধু ইরানের কথায় হরমুজ প্রণালি খুলবে এবং বন্ধ হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নিচ্ছেন এবং কল্পনার জগতে থাকা বন্ধ না করছেন ততক্ষণ ইরান অবরোধ চালিয়ে যাবে।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেননি।

ইরানের সংবাদমাধ্যম শাহরার নিউজকে শনিবার দেওয়া সাক্ষাতকারে আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রণালি নিয়ে ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চাংশ তেল পরিবহন হয়। ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহ থাকায় এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেশের নাগরিকদের আরও একটু বেশি দামে তেল কেনার বিষয়টি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন, পেট্রলের জন্য ‘সামান্য একটু বেশি’ খরচ করা মেনে নেওয়া উচিত। কারণ এর বিনিময়ে একটি ‘খুবই দুষ্ট দেশ’ যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম এখন রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক শূন্য ৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

রিপাবলিকান ট্রাম্প পুনর্নির্বাচনের প্রচারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিকে সামনে আনতে চাইছে।

শুক্রবার অপরিশোধিত তেল ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে।

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, “কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী, আদেশ জারি কিংবা নির্বাচনি বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।”

ইরানের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতিতেও যুদ্ধের চাপ পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।

এমআই/টিএ




মন্তব্য করুন