বিএনপি সরকার জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায়: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৫ পিএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ছয় মাস হলো আমরা এসেছি। আমরা একটা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই। সেই সিগন্যাল বিভিন্নভাবে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার হলো হাই-এন্ড এমপ্লয়মেন্ট তৈরি করা।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হেটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার এবং ভ্যাকসিন: বায়োইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ তৈরি’- শীর্ষক বৈঠকটি যৌথভাবে ‘বায়োটেড’ (BioTED) এবং ‘সমরু বায়োসায়েন্স’ (Somru BioScience) আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্নসময় আমাদেরসহ ফার্মাসিটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একাধিকবার বসেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু আলোচনা সেখানে হয়েছে। আমাদের নীতি হলো ইন্ডাস্ট্রি গ্রোথের জন্য যা যা সমর্থন প্রয়োজন তা আমরা দিব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ফার্মসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির অবদান রাখার বিশাল একটা সুযোগ আছে। সেই সুযোগ যেন আমরা মিস না করি। তবে এই ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি দেখার আগে হিউম্যান রিসোর্স ট্রেইন আপ করতে হবে। এর জন্য যে স্ট্রাটেজি প্রণয়ন প্রয়োজন তা আমরা করব।
বৈঠকে ওষুধ শিল্পের বর্তমান চিত্র ও বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের নতুন সম্ভাবনা এবং সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হয়। বিশ্বের ১৬৬টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে।
বক্তারা জানান, জেনেরিক ওষুধের এই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন নতুন ধাপে যাওয়ার সময় এসেছে। এখন উচ্চমূল্যের বায়োলজিকস, বায়োসিমিলার এবং ভ্যাকসিন তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ১১৮টি বায়োলজিকস ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ২৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বায়োসিমিলার ওষুধের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ক্লিনিক্যাল গবেষণায় বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয় সমরু বায়োসায়েন্স। কানাডাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা সম্প্রতি ঢাকায় নোভক্লিনিক্যাল রিসার্চ’ (Novus Clinical Research) অধিগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে এটি তাদের প্রথম সরাসরি বিনিয়োগ। দেশে ক্লিনিক্যাল গবেষণার অবকাঠামো তৈরির জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক ফার্মাসিটিক্যাল শিল্পে বায়ো সিমিলার এবং ভ্যাকসিন এর বর্তমান অবস্থান এবং সেই সাথে বাংলাদেশের ফার্মাসিটিক্যাল শিল্পে এই দুই ধরনের পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র উপস্থাপন করেন Somru Biosciences এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মইন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ে কানাডা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের পর বাংলাদেশেও তারা এই শিল্পে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
বায়োফার্মা খাতের উন্নয়নে অনুষ্ঠানে ৫টি নীতি প্রস্তাব করা হয়। সেগুলো হলো- বায়োলজিকস ও ভ্যাকসিনের জন্য ১০ বছর মেয়াদী একটি কৌশলপত্র তৈরি করা। গবেষণা এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য যৌথ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা। আন্তর্জাতিক মানের রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। কারখানার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাজার তৈরি: মানসম্মত ওষুধের বাজার তৈরি করা এবং রপ্তানিতে সহায়তা দেওয়া।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ড. মুনিয়া আমিন বলেন, জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। তবে এই শিল্পের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে একটি সমন্বিত বায়োইকোনমি কৌশল দরকার। আমাদের উৎপাদন সক্ষমতার সাথে মানবসম্পদের সংযোগ ঘটাতে হবে।
বায়োটেডের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম বলেন, বায়োফার্মা খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ছাড়া প্রকৃত প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। লাইফ-সায়েন্সের স্নাতকদের হাতে-কলমে কাজের সুযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যে সাশ্রয়ী মূল্যে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম, তা আগেই প্রমাণিত। এখন আমাদের বিজ্ঞান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
আলোচনায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন এবং মতামত প্রকাশ করেন।
কেএন/টিএ