ছাত্রদল ও বামদের উদ্দেশে ঢাবি শিক্ষক মোনামি'আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি বোঝাতে পারব না'
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৩ পিএম | ১৭ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।
সোমবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোনামি লেখেন, আমি আমার পারসোনাল প্রোফাইল থেকে, একান্তই পারসোনাল এক্সপিরিয়েন্সের একটা ছবি ও পোস্ট দিলাম; যেটা সম্পূর্ণ জাতীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু আমার ছবি শেয়ার করে এরকম অমার্জিত ও নির্লজ্জ পোস্ট দেওয়া একমাত্র ছাত্রদল দিয়েই সম্ভব। অবশ্য আমি এতে অবাক হইনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে অন্যদের চেয়ে ভালো ভাবার কোনো কারণ দেখি না। যারা সুশীল, তাদের সুশীলতা কেবল লীগ (মায়াকান্না) আর দলের (বিশিষ্ট) শিক্ষকদের জন্যই। আর কোনো শিক্ষক এর আওতায় পড়ে না। আর যদি জামায়াত ট্যাগ থাকে, তাহলে তো হলোই। যেমন আমি।
ঢাবির এই শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকসুর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আর বামদের এসব কেবল চুপ করে দেখে যাচ্ছি। নিজেকে সান্ত্বনা দিই, আমি যেহেতু শিক্ষক, আমি ওদের না হয় ক্ষমাই করে দিই। কিন্তু মানুষ হিসেবে, কষ্ট পাওয়াটা সাভাবিক।
‘আমি কেবল ভাবি, এতে ওদের কী লাভ হয়? দলের কাছে বাহবা পাওয়া নাকি নিজেকে খুব নির্লজ্জ হিসেবে জাহির করা? করলেই বা কি, এসব উদ্ধত আচরণ দিয়ে জীবনে কেউ খুব বেশি কিছু করতে পারে না। যাগগে, পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে আর রাজনীতিকে একমাত্র পেশা বানাতে চাইলে হয়তো এসব করতে হয়’, যোগ করেন তিনি।
মোনামির ওই পোস্টের নিচে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘একটা লাইফলেস বাম আছে। বিদেশ গেছে, তাও সভ্য হতে পারে নাই বিন্দুমাত্র। অযথা এমন ব্যক্তিগত ছবি, অভিব্যক্তি শেয়ার দেয়। ওদের টার্গেট আপনি বেশি, কারণ আপনাকে খারিজ করে দেওয়া যাচ্ছে না কোনো ফ্রেম করে।’
জবাবে মোনামি একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামের এক বড় নেত্রীর অনেক বড় একটা সাহায্য করেছিলাম, সহকারী প্রক্টর থাকাকালে। সব দরজা যখন তার জন্য বন্ধ, তখন প্রক্টর অফিসে এসে কেঁদেছিল, ব্যবস্থা না করলে ওর পড়ালেখা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। আমি ওর জন্য কত দৌড়ঝাঁপ দিলাম। অবশেষে ওকে সাহায্য করতে পারলাম। ওকে বললামও, সবকিছুর পাশাপাশি এবার পড়াশোনাটা শেষ করো কিন্তু। আমাকে জড়িয়ে ধরলো। সেই একই মেয়ে কিছুদিন পর রাজুতে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে ভাষণ দিলো। আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, আমি বলে বোঝাতে পারব না। আল্লাহ হয়তো এর উত্তম প্রতিদান আমাকে দেবেন, মানুষ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করা ভুল, এরা অকৃতজ্ঞ এবং কৃতঘ্ন হবে এটাই হয়তো সাভাবিক।’
এমআই/টিএ