© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কোটি টাকার আশায় কিশোরের অণ্ডকোষ ‘ছিনতাই’ করে পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ

শেয়ার করুন:
কোটি টাকার আশায় কিশোরের অণ্ডকোষ ‘ছিনতাই’ করে পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩০ পিএম | ১৮ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে ইনস্টাগ্রামে একটি ‘রিলস’-এ ছড়ানো ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি আয়ের আশায় এক কিশোরকে (১৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জোহেব খান (২০) ও আমির কুরাইশিসহ (১৮) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের ভাষ্য মতে, একজন তরুণের টেস্টিকল বা অণ্ডকোষ চড়া দামে বিক্রি করা যায়— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন এক গুজবে বিশ্বাস করে পরিকল্পনাটি ফাঁদা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের মতে, দ্বিতীয় বর্ষের বিবিএ শিক্ষার্থী জোহেব খান সাদা অ্যাপ্রন পরে নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে জাহির করতেন। তিনি তার সঙ্গীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে ১৫-১৬ বছর বয়সী কোনো কিশোরের অণ্ডকোষ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি (প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা) আয় করা সম্ভব।

ভোপাল পুলিশের জোন-৩ এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) আয়ুষ গুপ্ত ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিও দেখার পর জোহেব নিজেই চক্রান্তের মূল পরিকল্পনা সাজান এবং অন্যদের কাছে সেই তথ্য পরিবেশন করেন।

নিহত কিশোরের নাম রেহান (১৭)। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা একটি গণশৌচাগারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। রেহান নিজে শহরের ইকবাল ময়দান ও মতি মসজিদ এলাকায় কলম এবং কি-চেইন বিক্রি করে পরিবারকে সহায়তা করত।

পুলিশ জানায়, গত ৬ আগস্ট অন্য ছেলেদের সঙ্গে ঝামেলা মেটানোর অজুহাতে ও ১০০ রুপির প্রলোভন দেখিয়ে রেহানকে ইকবাল ময়দান থেকে নির্জন ঢোবিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রেহানের ওপর ধারাল ছুরি ও ব্লেড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর অভিযুক্তরা ফোনে জোহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী রেহানের অণ্ডকোষ কেটে একটি পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ করে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর অঙ্গটি কার কাছে কোটি টাকায় বিক্রি করা হবে— সে বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো স্পষ্ট ধারণা বা পূর্ব যোগাযোগ ছিল না। কয়েক দিন ধরে অঙ্গটি বিক্রির সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজে ব্যর্থ হওয়ার পর, অভিযুক্তরা বুঝতে পারে যে পুরো বিষয়টিই একটি গুজব ছিল। এরপর তারা সেই অঙ্গটি পানিতে ফেলে দেয়।

তদন্তকারীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন, অনলাইনে ছড়ানো ওই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

গত ১০ আগস্ট ছোট তালাবের কাছে ঢোবিঘাট এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত পচা গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পেট ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখে একটি হত্যা মামলা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মরদেহ শনাক্ত করতে না পেরে নিয়ম অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে ১৫ আগস্ট এক নারী তার নিখোঁজ ছেলের খোঁজে পুলিশের কাছে আসেন। পরবর্তীতে মরদেহের হাতে থাকা একটি বিশেষ ট্যাটু দেখে তিনি সেটি তার ছেলে রেহানের বলে নিশ্চিত করেন।

বর্তমানে পুলিশ ওই বিভ্রান্তিকর রিলসের মূল উৎস খুঁজে বের করতে এবং সামাজিক মাধ্যমে এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: এনডিটিভি

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন