হাজত থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতার ভিডিও বার্তা, ওসিকে প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৭ এএম | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
একইসঙ্গে থানার ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। আর হাজতের ভেতর থেকে ভিডিও ধারণের ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ওসিকে প্রত্যাহারের পর সদর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক (তদন্ত) শাহেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওসি সাহেব পুলিশ লাইনসে গেছেন। আপাতত আমি দায়িত্ব পালন করছি।’
বদলি হওয়া অন্য দুজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিংকি রায়কে শ্যামনগরে ও এনিভা খাতুনকে কালীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগের নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের হাজতের ভেতর থেকে দেওয়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ১৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী থানা হাজতে আটক ছিলেন। তখন একজন ব্যক্তি থানায় এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এটি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।
জানা যায়, হাজত থেকে দেওয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে থানার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে গতকাল ওসি মাসুদুর রহমানের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে শহরের নিউমার্কেট চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এই কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ওসিসহ তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
তবে ওসিকে প্রত্যাহারের সঙ্গে এসব অভিযোগের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘সদর থানার ওসির বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশে নিয়মিতই বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়। এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। ডিউটি অফিসার ও সহকারী ডিউটি অফিসারের বদলিও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ।’
একইসঙ্গে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির বিষয়টিও তদন্ত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমআর/টিএ