© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ক্যামেরায় বন্দি দৃশ্যশিক্ষকের থাপ্পড় খেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর

শেয়ার করুন:
শিক্ষকের থাপ্পড় খেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২০ এএম | ২১ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকের থাপ্পড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলেছে, হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে সে মারা গেছে। এই ঘটনায় দেশটিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

প্রণয় তেজা নামের শিশুটির স্বজনরা বলেন, হোম ওয়ার্ক না করায় শিক্ষক থাপ্পড়ের পাশাপাশি বেত দিয়ে মারধর করার পর সে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। তাকে কিং জর্জ হাসপাতালে (কেজিএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশাখাপত্তনমের ওয়ান টাউন এলাকার ‘লিটল গার্ডেন স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি স্কুলে মর্মান্তিক ওই ঘটনা ঘটে। শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর খবর পেয়ে শিশুটির স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শিশুটির পরিবার বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল প্রণয়। তার বাবা বলেন, শিশুটি নিজেই সেদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে শিশুটির বাবা বলেন, সকাল ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে বলে সে স্কুলে যাবে। স্কুলে যাওয়ার জন্য সে জেদ ধরছিল। প্রথমে তাকে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে পাঠাতে চায়নি পরিবার। তবে পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হয়।

‌‌‘‘আমরা ভাবলাম, ঠিক আছে, সামনেই পরীক্ষা, তাকে যেতে দেওয়া যাক। সে বলল, ঠিক আছে বাবা, আমি স্কুলে গেলাম এবং স্কুলে চলে গেল।’’

পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটির মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই তাদের কাছে দুসংবাদ আসে।

শিশুটির বাবা বলেন, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি একটি ফোন কল পান এবং জানতে পারেন যে তার ছেলের কিছু একটা হয়েছে। তবে সেই ফোনটি সরাসরি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসেনি।

তিনি বলেন, স্কুল থেকে কেউ আমাকে ফোন দেয়নি। আমার শ্যালকের কর্মস্থলের কাছের স্থানীয় কয়েকজন বাবুর্চি আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

শিশুটিকে যখন কিং জর্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন পরিবারকে জানানো হয়, সে আগেই মারা গেছে। শিশুটির বাবা বলেন, স্কুলের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তারা তথ্য চাইলে পরে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই ফুটেজে শিক্ষককে শিশুটিকে মারধর করতে দেখা গেছে।

বাবা অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আমরা দেখতে পাই, শিক্ষক তাকে ভয় দেখিয়েছেন। তিনি তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং আতঙ্ক ও ভয়ে সে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এক চিকিৎসক তাদের বলেছেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছু সময় আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

‘‘চিকিৎসক আমাদের বলেছেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই সে মারা গেছে।’’

এনডিটিভির সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে শিক্ষককে শিশুটিকে মারধর করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরই শিশুটি ওই শিক্ষকের কোলে ঢলে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার আগে ছেলে অসুস্থ ছিল, এমন জল্পনা বা ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিশুটির বাবা।

ছেলের পূর্বের কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল কি না; জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদম কোনো সমস্যা ছিল না। গত রাতে সে আনন্দের সঙ্গেই খেলাধুলা করছিল এবং আজ সকালেও সুস্থভাবেই ঘুম থেকে উঠেছে। তার কোনো ভাইরাল জ্বর বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না।

পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক শাস্তির এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। তাদের দাবি, অন্য শিশুদেরও মারধর করা হয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন রাজ্যের রেভিনিউ ডিভিশনাল অফিসার (আরডিও) দিলীপ চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, স্কুল থেকে একটি ৬ বছরের শিশুকে মৃত অবস্থায় কেজিএইচে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি প্রশাসন এ ঘটনার সব বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন