© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিকল্প হিসেবে তুষ ও কয়লা দিয়ে তৈরি জ্বালানির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বিকল্প হিসেবে তুষ ও কয়লা দিয়ে তৈরি জ্বালানির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪০ পিএম | ২২ আগস্ট, ২০২৬
শিল্প-কারখানায় গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ধানের তুষ ও কয়লার মাধ্যমে জ্বালানি তৈরি ও ব্যবহারের রূপরেখার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “দেশে দৈনিক সাড়ে তিন থেকে চাার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বত্তম ব্যবহার সম্ভব; যা স্টোরেজ সুবিধার মাধ্যমে সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারে। সরকার গৃহীত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতের লোডশেডিং সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।

“পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটগুলোতে গ্যাস ও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রাইস হাস্ক (ধানের তুষ) ও কয়লা ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।”

শনিবার দুপুরের দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন একটি ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপ্তারার একটি তৈরি পোশাক কারখানা ধানের তুষ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গ্যাস তৈরি করে নিজেদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করতে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

উৎপাদন খরচ গ্রিডের গ্যাসের তুলনায় দ্বিগুণ হলেও সংকটের মুহূর্তে কারখানার উৎপাদন পূর্ণদমে চালিয়ে যেতে এটি কার্যকর হচ্ছে বলে দাবি করেছে ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের মূল লক্ষ্য এই অবদানকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট বিবেচনায় অধিক জ্বালানি-নির্ভর শিল্পের বদলে স্বল্প বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

নতুন চালু হওয়া এই সেন্টারে সিলেটে উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুবিধা থাকবে; যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যের বিশ্বব্যাপী প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

বিকালে নগরীর উপশহর এলাকায় মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময়সভার তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

মন্ত্রী বলেন, “সিলেট একটি শান্তিপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক নগরী। এখানে কোনো অবস্থাতেই মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। সামাজিক এই ব্যাধিগুলো রূপ নিচ্ছে মারাত্মক অপরাধে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

এ সময় পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আশ্বাস দিয়ে বলেন, “মহানগরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে। অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মহানগর পুলিশ তাৎক্ষণিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

কেএন/এসএন



মন্তব্য করুন