ট্রাম্পের ৫০% শুল্কযুক্তরাষ্ট্রকে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৪ এএম | ২৩ আগস্ট, ২০২৬
কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপ করা শুল্ককে ‘ভুল হিসাব’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার দাবি, কানাডাকে ‘আঘাত করা ও বিভক্ত করার’ উদ্দেশ্যেই নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কার্নি বলেন, ‘তারা অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে।’ আলোচনার ব্যর্থতার পর কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক কানাডাও পণ্যের ওপর আরোপ করবে। অর্থাৎ ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক দেওয়া হবে। এর আওতায় ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য থাকবে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও গভীরভাবে সংযুক্ত বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়া বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আলোচনার শর্তে পরিবর্তন আনার অভিযোগ তুললে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে আলোচনা ভেঙে যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠজাত পণ্যের ওপর আগে থেকেই থাকা মার্কিন শুল্কও বহাল রয়েছে।
তবে নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের কানাডীয় পণ্য এতে অন্তর্ভুক্ত, যা দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য।
এসএ/এসএন