খেলায় প্রধান অতিথি না করায় মাইকিং করে ‘১৪৪ ধারা’ জারি করলেন ছাত্রদল নেতা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৭ পিএম | ২৩ আগস্ট, ২০২৬
নাটোরের লালপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রধান অতিথি না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা বেআইনিভাবে মাইকিং করে ‘১৪৪ ধারা’ জারির ভুয়া ঘোষণা দেন।
এতে পুরো গ্রামজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়ে আসছে। গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি করা হয় না। বরং খেলা শেষে গ্রামের প্রবীণ বা প্রধান ব্যক্তিরাই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন—এটাই দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি।
প্রায় ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া এবারের টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ চাকরিজীবীদের বিভিন্ন দল অংশ নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব জানান, শুরু থেকেই লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মারুফ আলী দাবি জানিয়ে আসছিলেন, ফাইনাল খেলায় লালপুরের সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মলামকে প্রধান অতিথি করতে হবে।
পাশাপাশি নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবিও জানান তিনি। কিন্তু আয়োজকরা ঐতিহ্য বজায় রাখতে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ আলী শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে ঘোষণা দিতে থাকেন, খেলার মাঠে ‘১৪৪ ধারা’ জারি করা হয়েছে এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবে না।
এ ভুয়া ঘোষণার পরপরই খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
গ্রামপ্রধান আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভিত্তিহীন এ ঘোষণার কারণে সুন্দর একটি পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।’
অপর গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফ আলী ‘১৪৪ ধারা’ জারির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মলাম জানান, তাকে অতিথি করার বিষয়ে তিনি কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি। বিষয়টি জানার পর মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের ভুল স্বীকার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআই/এসএন