ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৮ এএম | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মো. হানিফ শেখ (৫১) নামে এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন রোগী দেখতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করানোর জন্য হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে ফের তার ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
পরে কিশোরী ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানালে ২৪ মার্চ তার বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, ‘কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌন নিপীড়ন একটি জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
একেএস/টিএ