পুলিশের হাতে দেওয়ার সময় ছেলের গায়ে ছিল গেঞ্জি, পরে দেখি শার্ট: সিদ্ধার্থের বাবা
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৪ এএম | ২৫ আগস্ট, ২০২৬
রংপুরে পুলিশের হাতে আটক সিদ্ধার্থ দাসকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করার পর তার পরনের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, আটকের সময় সিদ্ধার্থের গায়ে কেবল একটি গেঞ্জি ছিল। পরে গণমাধ্যমের সামনে আনার সময় তার গায়ে দেখা যায় একটি নকশার শার্ট, যা পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী তার কখনোই ছিল না।
তবে যে ডিবি কর্মকর্তার পরনের শার্টের সঙ্গে সিদ্ধার্থের শার্টের হুবহু মিল পাওয়া গেছে, তিনি বিষয়টিকে নিছক ‘কাকতালীয়’ বলে দাবি করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধার্থের পরিবারের সদস্যরা জানান, আটকের সময় তার শরীরে ওই শার্ট ছিল না। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতির পর রোববার ভোররাতে পুলিশ সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। পরে চাচার বাড়ি থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, আটকের সময় ওর গায়ে কেবল একটি গেঞ্জি ছিল। পরে পুলিশ যখন সাংবাদিকদের সামনে আনল, তখন তার গায়ে ওই শার্ট দেখা গেছে। ওই ধরনের শার্ট তাকে কখনোই পরতে দেখিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কখনোই এমন নকশার কোনো শার্ট ছিল না। কীভাবে সে এই শার্ট পরল, তা পুলিশই ভালো বলতে পারবে।’
এর আগে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্ধার্থের পোশাক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের সময় ধারণ করা বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের লাইভ ভিডিওতে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীকে একটি নির্দিষ্ট প্রিন্টের শার্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
পরবর্তীতে তার হাতে আটক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে বাইরে আনা হলে সিদ্ধার্থের গায়েও একই নকশার সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি শার্ট দেখা যায়। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আটক ব্যক্তির পোশাকের এমন মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয় ঘটনা।
তার ভাষ্য, ওই শার্ট রংপুরে আমিসহ আরও দুই শ জনের আছে। একই ধরনের পোশাক অনেকেরই থাকতে পারে। এটাকে পুঁজি করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আটকের পর অভিযুক্তদের কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময়ও সিদ্ধার্থের গায়ে ওই শার্টটিই ছিল।
অন্যদিকে, সিদ্ধার্থের পরিবারের সদস্যরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে বলছেন, পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় সিদ্ধার্থের গায়ে ওই শার্ট ছিল না। ফলে কীভাবে পরে তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা।
এমআই/এসএন