ভারতে ব্রিকস সম্মেলনের হোটেলে পচা খাবার ও তেলাপোকা
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৯ পিএম | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) পরিদর্শনের পর গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে নয়াদিল্লির অ্যারোসিটিতে অবস্থিত দুই পাঁচতারকা হোটেল আন্দাজ দিল্লি এবং জেডব্লিউ ম্যারিয়টকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।
হোটেল দুটিতে পরিচালিত পরিদর্শনে গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
পরিদর্শনের সময় আন্দাজ হোটেল থেকে ৮৭ কেজি মেয়াদউত্তীর্ণ মিষ্টি জব্দ ও ধ্বংস করা হয় এবং জেডব্লিউ ম্যারিয়ট প্রাঙ্গণে ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের সক্রিয় উপদ্রব পাওয়া যায়। এই দুটি হোটেলই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অতিথিদের অবস্থান ও অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অ্যারোসিটির আন্দাজ দিল্লি হোটেলে পরিদর্শনের সময় কনফেকশনারি সেকশনে ৮৭ কেজি মেয়াদউত্তীর্ণ মিষ্টি পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া সেখানে মেয়াদউত্তীর্ণ স্টিকারযুক্ত পাউরুটির প্যাকেট, মেয়াদ পার হওয়া কেকের বেস এবং পেস্ট্রি সেকশনে মাছি ও তেলাপোকার উপস্থিতি ধরা পড়ে। একই সঙ্গে রান্নাঘরে নিরামিষ ও আমিষ খাবার পৃথক রাখার নিয়মে গলদ দেখা যায়, যেখানে উভয় ধরনের খাবার কাটার জন্য ব্যবহৃত বোর্ড একই পানির পাত্রে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে, জুনিপার হোটেলস দ্বারা পরিচালিত আন্দাজ দিল্লির পর অ্যারিয়া হোটেলস অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের আওতাধীন অ্যারোসিটির জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে পরিদর্শনের সময় দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই তাদের ব্র্যান্ডের অধীনে খুচরা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হোটেলটিতে ব্যবহৃত পনির, খোয়া ও ছানা মসলাসহ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রীতে উৎপাদকের ঠিকানা অনুপস্থিত ছিল অথবা লাইসেন্স নম্বর ভুলভাবে ছাপা ছিল। প্রতিষ্ঠানের মূল লাইসেন্সটিও দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো ছিল না।
রেগুলেটর সংস্থাটি জানায়, হোটেল প্রাঙ্গণজুড়ে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিদর্শকরা সেখানে তেলাপোকা ও ফল-মাছির সক্রিয় উপদ্রব, নোংরা খাদ্য স্পর্শকারী পৃষ্ঠ এবং ধোয়া ছাড়া রান্নার পাত্র নথিভুক্ত করেছেন। এছাড়া পানের পানিতে দৃশ্যমান ময়লার কণা পাওয়া গেছে, যা অপর্যাপ্ত পোকা দমন ব্যবস্থা ও সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে নির্দেশ করে।
তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, ছত্রাক আক্রান্ত আপেল ও পচা টমেটোর মতো নষ্ট উপাদান খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। খাবার ঢাকনা ছাড়া রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। হোটেলের কর্মীরা আমিষ ও নিরামিষ পণ্য সঠিকভাবে আলাদা করতে ব্যর্থ হন এবং সংরক্ষণের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করায় ক্রসে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এফএসএসএআই জানিয়েছে যে, পরিদর্শনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করা হলেও সংগৃহীত নমুনার বিশ্লেষণ এবং হোটেলগুলোর সংশোধনী পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমআই/এসএন