নতুন পে-স্কেল দেওয়া হবে কি না, ক্লিয়ার করেন: সরকারকে এমপি আতিক
ছবি: সংগৃহীত
১১:০৮ পিএম | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
নতুন পে-স্কেল দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয় এবং এসব বিষয়ে রাজনীতি করা হলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের পরিচিতি সভা ও ‘শিক্ষা খাতে সুশাসন: নিয়োগ, বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে বারবার পে স্কেল নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করার তাগিদ দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ ছেড়ে দিলে অযোগ্য বা খারাপ স্বভাবের লোক নিয়োগ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষকদের বেতন ও অবকাঠামোগত বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, বড় বড় ভবন বা প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও শিক্ষকদের মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ৩ কোটি টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেখানকার ইমামের বেতন মাত্র ৪ হাজার টাকা—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজ টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
এদিকে সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান রিজভী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে চান, কিন্তু পেটের দায়ে তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমপিওভুক্তির দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণে দেশের হাজার হাজার শিক্ষক বর্তমানে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়োগ, বরাদ্দ, শিক্ষক বদলি এবং পদোন্নতিসহ সব খাতের অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানান বক্তারা।
আরআই/টিএ