মেয়েকে নির্যাতন, ঘরে ফেরানোর ১৫ দিন পর জামাইয়ের হাতে প্রাণ গেল বাবার
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২১ পিএম | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
মেয়ের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিনের অশান্তি আর নির্যাতনের অভিযোগে ১৫ দিন আগে মেয়েকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিলেন বাবা মজিদ মোড়ল (৬৫)। এরপর আর মেয়েকে স্বামীর সংসারে ফেরত পাঠানো হয়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জের জামালপুর বাজারে কুড়ালের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন সেই বাবা।
কলা ব্যবসায়ী মজিদ মোড়লকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তারই জামাতা মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের (৩৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিন শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল। পুলিশ বলছে, তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ১৭ বছর আগে তার মেয়ে শাহানারার (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের। তাদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাহানারাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন মোজাম্মেল। শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও স্ত্রীকে চাপ দিতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে। এরপর বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন শাহানারা। স্বামীর সংসারে আর ফিরে যাবেন না বলেও তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও কলার ছড়া নিয়ে জামালপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ভাঙারি পট্টির গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তাকে ধারালো কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আচমকা আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান মজিদ। স্থানীয়রা তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মজিদ মোড়লের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেল হককে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ।
তবে অভিযানের মধ্যেই ঘটে আরেক ঘটনা। শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কালীগঞ্জ থানার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন মামলার অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণের কথা জানান। ফোন দেওয়ার প্রায় ২৫ মিনিট পর সকাল ১০টার দিকে থানায় হাজির হন তিনি। পরে পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল।
এর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ওই ভিডিওতে শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন মোজাম্মেল।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে যায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মজিদ মোড়লের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছিল। পরে তিনি নিজেই থানার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে আত্মসমর্পণের কথা জানান এবং সকাল ১০টার দিকে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মোজাম্মেল হককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরআই/টিএ