© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩২ পিএম | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন আজ। ১৯৬৩ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী এই নির্মাতা। সংবেদনশীল গল্প, সম্পর্কের জটিলতা, নারীর মনস্তত্ত্ব ও মানবিক সংকটকে নিজস্ব নির্মাণশৈলীতে তুলে ধরে বাংলা সিনেমায় স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

ঋতুপর্ণ ঘোষের বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা ও চিত্রকর। সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন ঋতুপর্ণ। কর্মজীবনের শুরুতে বিজ্ঞাপনী জগতে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাণকেই নিজের প্রধান পরিচয় হিসেবে বেছে নেন।

১৯৯২ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘হীরের আংটি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘উনিশে এপ্রিল’, ‘দহন’, ‘অসুখ’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘উৎসব’, ‘তিতলি’, ‘শুভ মহরত’, ‘চোখের বালি’, ‘অন্তরমহল’, ‘খেলা’, ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’, ‘আবহমান’ ও ‘চিত্রাঙ্গদা’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি।

ঋতুপর্ণ ঘোষের নির্মিত একাধিক চলচ্চিত্র বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। ২০০৪ সালে ও. হেনরির গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘রেনকোট’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের নির্মাণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’ চলচ্চিত্রে অমিতাভ বচ্চনকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিয়ে কাজ করেন।

শুধু পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না ঋতুপর্ণ। অভিনয়েও নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন তিনি। ওড়িয়া চলচ্চিত্র ‘কথা দেইথিল্লি মা কু’ দিয়ে তার অভিনয়ে অভিষেক হয়। ২০১১ সালে ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ও ‘মেমরিজ ইন মার্চ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের সামনে নতুন পরিচয়ে হাজির হন তিনি। মৃত্যুর আগে ‘সত্যান্বেষী’ চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছিলেন ঋতুপর্ণ। গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল সিনেমাটি।

চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ‘আনন্দলোক’ সম্পাদনা করেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তার লেখনী, চলচ্চিত্রভাবনা ও নির্মাণশৈলী তাকে সমকালীন নির্মাতাদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

বাংলা চলচ্চিত্রে সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যক্তিমানুষের আবেগ, নারীর অন্তর্জগত ও সমাজের নানা বাস্তবতাকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন ঋতুপর্ণ। তার সিনেমার গল্প বলার ধরন যেমন দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে, তেমনি পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতাদের কাছেও তৈরি করেছে নতুন পথের দিশা।

২০১৩ সালের ৩০ মে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মারা যান ঋতুপর্ণ ঘোষ। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তার চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রে তৈরি করেছিল গভীর শূন্যতা। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার চলচ্চিত্র, চরিত্র নির্মাণ ও গল্প বলার নিজস্ব ধারা দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সমানভাবে আলোচিত।

এসএ/এসএন


মন্তব্য করুন