© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা দুধে মিলল জ্যান্ত পোকা

শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা দুধে মিলল জ্যান্ত পোকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫৩ পিএম | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত ইউএইচটি তরল দুধে জ্যান্ত পোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার দেবীডুবা-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) ছুটির সময় শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু মোনালিসাকে প্যাকেটজাত দুধ ও বনরুটি দেয়া হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় মোনালিসা দুধ ও বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে স্ট্র দিয়ে কিছুটা দুধ পান করার পর বনরুটি দুধে ভিজিয়ে খাওয়ানোর জন্য তার মা প্যাকেটটি কেটে একটি বাটিতে দুধ ঢালেন। এ সময় দুধের মধ্যে একটি জ্যান্ত পোকা দেখতে পান তিনি। পরে পোকা পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মোনালিসার বাবা মোশারফ বলেন, ‘এর আগে কখনও এমন সমস্যা হয়নি। বিদ্যালয় থেকে দেয়া দুধের প্যাকেটের অর্ধেক স্ট্র দিয়ে পান করার পর বাকি দুধ বাটিতে ঢালতে গিয়ে জীবন্ত পোকা দেখতে পাই। পরে দুধটি আবার প্যাকেটে ভরে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের বিষয়টি জানাই।’

মোনালিসার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার পর বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিবেদক। এ সময় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিতাও আগের দিন সরবরাহ করা দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার কথা জানায়। তবে তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়নি বলে জানায়।

বিদ্যালয়ে ওই দিন সরবরাহ করা ১৪০ ব্যাচের কয়েকটি দুধের প্যাকেট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, প্যাকেটগুলোতে উৎপাদনের তারিখ ২ আগস্ট এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১১ নভেম্বর উল্লেখ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেবীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকারিয়া আনাম বলেন, ‘সারা দেশের বিদ্যালয়ে ইউএইচটি দুধ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ করা দুধে মাঝেমধ্যে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের বারবার বলছি, তারা যেন শিশুদের দুধ পান করানোর আগে সামান্য স্বাদ দেখে নিতে বলেন। কোনও শিক্ষার্থীর দুধের প্যাকেট নষ্ট পাওয়া গেলে পরদিন তাকে অন্য দুধের প্যাকেট দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে প্যাকেটে মাইক্রো লিকেজ হতে পারে। এতে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হয় এবং দীর্ঘ সময় গেলে ম্যাগোট জন্মাতে পারে।’

তবে বাণিজ্যিকভাবে প্যাকেটজাত দুধ উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ইউএইচটি পদ্ধতিতে গরুর দুধ ১৩৫ থেকে ১৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় চার সেকেন্ড উত্তপ্ত করে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর ছয় স্তরবিশিষ্ট টেট্রাপ্যাকের বিশেষ কার্টনে প্যাকেটজাত করা হয়। সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা দুধে বাইরের বাতাস, আর্দ্রতা ও আলো প্রবেশের সুযোগ থাকে না। ফলে স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও এ ধরনের দুধ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।

দেবীডুবা-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জন কুমার রায় বলেন, ‘সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রংপুর ডেইরি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে রংপুর ডেইরিকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের খাবারের গুণগত মান যাচাই করে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন