মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে ফের কারাগারে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩২ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পারোলে কারাগার থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছান তিনি। সেখানে সন্ধ্যায় তার মা সন্ধ্যা রানী ধরের শেষকৃত্য শুরু হয়।
শেষকৃত্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন চিন্ময় দাস। তারপর প্রিজন ভ্যানে করে আবার তাকে চট্টগ্রাম কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “বিকাল পৌনে ৫টার দিকে চিন্ময় দাসকে নিয়ে আসা হয়। উনি মায়ের মুখাগ্নি করেন। এরপর স্নান ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আবার উনাকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান শহরের দিকে রওনা হয়।”
এরআগে দুপুর আড়াইটার দিকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় দাসের পারোল চেয়ে পরিবারের করা আবেদন অনুমোদন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়।
এ দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াতের শেষ ইচ্ছা অনুসারে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আনার জন্য বিকাল ৪টার দিকে চিন্ময় দাসকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে দুপুর থেকে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকালে যখন চিন্ময় দাসকে নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছায় তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই অনেক ভক্ত-অনুরাগী মন্দিরে জড়ো হয়।
চিন্ময় দাসকে পুলিশ প্রহরায় মন্দিরের ভিতর নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্বজন, মন্দিরের সন্ন্যাসী ও প্রতিবেশীরা চিন্ময়কে স্বান্তনা দেন। এ সময় চিন্ময় কাঁদতে কাঁদতেই ধামের ভিতরে থাকা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন। পরে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
মৃত্যুশয্যায় থাকা মা যাতে শেষবার তাকে দেখতে পারেন, সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পারোলের আবেদন করার কথা বলা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক দেশের একটি গণমাধ্যমকে তখন বলেছিলেন, “অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য পারোলে মুক্তি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। কেবল স্বজন মারা গেলে এ সুযোগ পাওয়া যায়।”
এমআর/টিএ