© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, মানুষের মনে প্রশ্ন: রিজভী

শেয়ার করুন:
বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, মানুষের মনে প্রশ্ন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৭ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশের বিদ্যুৎ খাতে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা- তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, সেটা ভারতের একটি রাজ্য ঝাড়খণ্ড। সেখানে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সেটার একটি ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটার সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয়, এর পেছনে কোনো রহস্য আছে কিনা, বা কোনো নাশকতা হচ্ছে কিনা?

তিনি বলেন, কেন এখন একটার পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও না কোথাও ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—মানুষের মনে আজ এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকার তো চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করতে। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি আছে, সেই পাওনাও তো সরকার পরিশোধ করছে। তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এ পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে?

দেশ এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিদ্যুৎ খাতের এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোনো কনস্পিরেসি বা চক্রান্ত হচ্ছে বলে আমার কেন জানি মনে হয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলতে চাই—এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার জন্য কি কোনো ধরনের চক্রান্ত চলছে? বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বা উঁকি মারার চেষ্টা করছে; কিন্তু তারা তা করছে কিভাবে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তখন কী করছে? এত বড় জমায়েত হলো, অথচ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি এ বিষয়ে অবগত ছিল না?

আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল; কিন্তু তারা যে রক্তপিপাসু আচরণ করেছে—প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে দিনদুপুরে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তারা যদি সেই ফ্যাসিবাদী ও দুঃশাসনের চেহারা নিয়ে আবার এ দেশে ফিরে আসতে চায়, তবে দেশের পরিণতি কী হবে? এই যে ছাত্রনেতারা ও শিশু-বাচ্চারা আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নেমেছিল—এক কাঁধে স্কুলের ব্যাগ, আরেক কাঁধে টিফিনের বাক্স, সেই অবস্থায় সাদা শার্ট পরা স্কুলছাত্ররা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে গেছে। আমরা কি সব ভুলে গেছি? 

ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে—যাতে কোনোভাবেই এ দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব এহসানুল হুদাসহ নেতারা।

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন