ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ব্রিকস, গাজা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরোধিতা নেতাদের
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৯ এএম | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ব্রিকস নেতারা। একই সঙ্গে ইরান ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে সংঘাত বন্ধে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নিউ দিল্লি ঘোষণা’য় এসব কথা বলা হয়। দুই দিনের এ সম্মেলনে জোটের সদস্যদেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক সংঘাত, গাজা পরিস্থিতি, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
ঘোষণায় গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো নীতির অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার ক্ষুণ্ন করে কিংবা দখলদারত্বকে বৈধতা দেয় বা দীর্ঘায়িত করে।
ঘোষণায় বলা হয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়েই সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারসহ তাদের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অধিকৃত জেরুজালেমের আইনগত ও ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। শহরটির সব ধর্মীয় স্থাপনা ও পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষা এবং সবার নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল)–এর স্থাপনা ও সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে জোটটি। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বে বিভাজন ও অবিশ্বাস বাড়ছে উল্লেখ করে ব্রিকস নেতারা সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে তা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে জোটটি।
পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
পারমাণবিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এ ঝুঁকি কমাতে নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছে জোটটি। যুদ্ধের সময়ও পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের জীবন ও পরিবেশ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সমালোচনা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকটজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ব্রিকস। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক বাধা বাড়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে জোটটি।
ঘোষণায় বলা হয়, একতরফাভাবে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা আরোপের ফলে বাণিজ্যব্যবস্থা বিকৃত হচ্ছে এবং এটি ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপেরও বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। এসব পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও ঘোষণায় বলা হয়েছে।
একেএস/টিএ