নিজের টাকায় গাড়ি কিনে ট্রোল, জবাব দিলেন ঐশ্বরিয়া
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২০ পিএম | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজের উপার্জনের টাকায় কেনা বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের মুখে পড়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। রেঞ্জ রোভার ইভোক কীভাবে কিনলেন, এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
তবে সমালোচকদের মুখের ওপর জবাব দিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, গাড়িটি কিনেছেন সম্পূর্ণ নিজের কষ্টার্জিত অর্থে। সম্প্রতি ‘আশা’ সিনেমার প্রচারণায় সঞ্চালক রঞ্জিনী হরিদাসের সঙ্গে কথোপকথনে জীবনের কঠিন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন ঐশ্বরিয়া। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্রেকআপের পর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময়েই গাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘২০২৪ সালে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় গাড়িটি কিনেছিলাম।

ব্রেকআপের পর এটি এমন এক সময় ছিল যখন নিজেকে নতুন করে গুছাচ্ছিলাম। সময়টা খুবই খারাপ ছিল এবং সেই সময়ে কিছু প্রজেক্ট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলাম। কেবল বন্ধুরা এই বিষয়টি জানত। তাই সুস্মিতা সেনের ডায়মন্ড রিংয়ের মতোই নিজেকে একটা বিশেষ উপহার দিতে চেয়েছিলাম।
গাড়ি ভালোবাসায় ট্রাইবেকা ব্লু রঙের একটি রেঞ্জ রোভার ইভোক উপহার দিই।’ ভালোবাসা দিবসকে নিজের জন্য বিশেষ করে তুলতেই গাড়িটির ডেলিভারি ১৪ ফেব্রুয়ারি নিতে চেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারিতেই গাড়িটির ডেলিভারি চেয়েছিলাম ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে। ফলে কেউ আমার সঙ্গে ডেট করতে চাইলে জেনে রাখুন, এটি আমি নিজেই নিজেকে উপহার দিয়েছি এবং এটিই আমার স্ট্যান্ডার্ড।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি কেনার ছবি প্রকাশের পরই শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও ট্রোলিং। অনেকেই জানতে চান, এত দামি গাড়ি কীভাবে কিনলেন অভিনেত্রী। কেউ কেউ এমনও প্রশ্ন তোলেন, গাড়িটি তাঁকে কেউ উপহার দিয়েছেন কি না।
ঐশ্বরিয়া জানান, শুটিং সেটেও তাঁকে সরাসরি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গাড়িটি কেউ উপহার দিয়েছেন কি না। এমন প্রশ্নে অবাক হয়েছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মনে হয়েছিল, এত দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার মতো কেউ যদি থাকতেন, তাহলে তাঁকে কেন সিনেমায় কাজ করতে হবে!
তবে এসব নেতিবাচক মন্তব্য তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং নিজের উপার্জনের অর্থে গাড়ি কেনাকে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই দেখেছেন ঐশ্বরিয়া।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। এর সঙ্গে একই সময়ে যোগ হয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ব্রেকআপ। কঠিন সেই সময় পেরিয়েই নিজের জন্য এই বিশেষ উপহার কেনেন তিনি।
বলা দরকার, কোচিন শহরের রাস্তায় রেঞ্জ রোভার ইভোকের আনুমানিক অন-রোড দাম প্রায় ৮২ দশমিক ৭৮ লাখ রুপি। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলসি ২২০ডি, যার দাম প্রায় ৯৮ দশমিক ১৭ লাখ রুপি।
এসএ/এসএন