ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের মধ্যস্থতায় ইরান-আমিরাত বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৩ পিএম | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে ভারতের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে এই বৈঠক হয়।
ব্রিকস সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে নিজের ভূমিকাকে কাজে লাগিয়ে ভারত দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের এই উদ্যোগ নেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
ভারতের ইরানি দূতাবাস বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের মধ্যে বৈঠকের বিষয় নিশ্চিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার পর এটিই ছিল ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক।
এর আগে গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তা এবং মার্কিন ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে আবুধাবি সরাসরি কোনো পক্ষ হিসেবে অংশ নেয়নি।
শনিবার নিজেদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুর মিলিয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তেহরান ও আবুধাবির সঙ্গেও সমান্তরাল সম্পর্ক রক্ষা করে চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি এবং আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সকালে সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থা, সরঞ্জাম ডিপো এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত শিশু হত্যাকারী মার্কিন বাহিনীর সেনা অবস্থান এবং রাডার ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক কঠিন কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে। দেশটি ইরান ও সৌদি আরবের মতো ব্রিকসের নতুন সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর তিনটি দেশের অবস্থান ছিল ভিন্ন।
সূত্র : এনডিটিভি
আরআই/টিএ