‘বিদেশে এক টাকা পেলেই রাজনীতি ছাড়ব’, ঘোষণা আসিফের
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৩ পিএম | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক লাইভে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শুধু প্রমাণ করুন যে আসিফ মাহমুদ বিদেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেছেন বা দেশের বাইরে সামান্য এক চিমটি ধুলাও কিনেছেন। বিদেশে কোথাও এক টাকাও পাওয়া গেলে সেদিনই আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সর্বশেষ অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসিফ। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, তার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেসব অঙ্ক ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্টের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
তিনি পেজটিকে আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপেজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা জানি না আজকের কণ্ঠ দুদক চালায়, নাকি দুদক আজকের কণ্ঠ চালায়। বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর।
একটি মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন এনসিপির এই নেতা।
তিনি বলেন, শুরুতে প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে তা প্রায় সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, প্যাভিলিয়ন ও দর্শকদের বসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।
আসিফ বলেন, সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয় এবং এটি এখনো বাস্তবায়নাধীন। দুর্নীতি হয়ে থাকলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে তার কিছু কর্মকাণ্ডে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বর্তমান তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ওই নেতাদের নাম বা দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।
দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের কিছু অংশের সমালোচনা করেন তিনি। আসিফ বলেন, এই মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আমি ভুক্তভোগী হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হয়তো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর দুদকের তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব। কিন্তু ততদিনে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাবে।
এ সময় তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আসিফ। তিনি দাবি করেন, তার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর।
তিনি বলেন, আপনারা অর্থ পাচারের অভিযোগে এমনকি একটি শিশুকেও টেনে আনছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
সবশেষে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, দয়া করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচার করুন। শুধু ক্লিকবেইট শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
এমআই/এসএন