© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বরিশালে শ্যালিকার সঙ্গে গোপন সম্পর্ক, ‘পথের কাঁটা’ স্ত্রীকে সরাতে আবাসিক হোটেলে জহিরুল

শেয়ার করুন:
বরিশালে শ্যালিকার সঙ্গে গোপন সম্পর্ক, ‘পথের কাঁটা’ স্ত্রীকে সরাতে আবাসিক হোটেলে জহিরুল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৭ পিএম | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বরিশালে পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে জবাই করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি হোটেল ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহতের স্বামী ও এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেক।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহত শোভার বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলায় পুলিশ নিহত শোভার স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষে সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল জহিরুল ইসলামের। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পরকীয়ার বিষয়টি জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন স্বামী জহিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

অপরদিকে হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। যে কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করব না।

একেএস/ টিএ

মন্তব্য করুন