© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্বামীর পছন্দের নারীই হলেন রুমার সতীন

শেয়ার করুন:
স্বামীর পছন্দের নারীই হলেন রুমার সতীন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৮ এএম | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বামীর অন্য নারীর প্রতি ভালো লাগার কথা শুনে অনেক সংসারেই শুরু হয় অশান্তি। তবে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের রুমা আক্তারের গল্পটা একেবারেই আলাদা। স্বামীর পছন্দকে মেনে নিয়ে সেই নারীকেই নিজ হাতে বিয়ে করিয়েছেন তিনি। পরে তাকে সতীন হিসেবে ঘরে তুলে নিয়েছেন। এখন দুই স্ত্রীকে নিয়েই একই ছাদের নিচে সংসার করছেন আব্দুর রহমান।

শুধু একই ঘরে থাকা নয়, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া কিংবা ঘোরাঘুরি, সবই করছেন দুই সতীন মিলেমিশে।

ঘটনাটি কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় আব্দুর রহমানের। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। প্রায় চার বছর আগে স্ত্রী রুমাকে আব্দুর রহমান জানান, নাজনীন সুলতানা নামের এক নারীকে তার ভালো লাগে।

স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে বিরোধে না গিয়ে বিষয়টি মেনে নেন রুমা। বরং স্বামীর পছন্দকে সম্মান জানিয়ে নিজেই নাজনীনকে নিয়ে যান কাজি অফিসে। সেখানেই তাদের বিয়ে হয়। এরপর নাজনীনকে নিজের সংসারে সতীন হিসেবে তুলে নেন রুমা।

রুমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী একদিন আমাকে জানান, নাজনীনকে তার ভালো লাগে। পরে তার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আমি নিজেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করি। এখন আমরা তিনজন সুখেই আছি। এক হাঁড়িতে রান্না করি, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি। তিনজন মিলে বেড়াতেও যাই।’

নাজনীন সুলতানারও একটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে রুমা ও নাজনীন একই বাসায় থাকেন। সংসারের কাজও নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন তারা। কখনো একজন রান্না করেন, অন্যজন ঘরের কাজ সামলান। আবার সুযোগ হলে দুজন মিলে বাইরে ঘুরতেও বের হন।

আব্দুর রহমানের বাড়ি গাইবান্ধার ঝরা বর্ষা গ্রামে। ২০০৬ সালে কাজের সন্ধানে গাজীপুরে আসেন তিনি। বর্তমানে চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন।

দুই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হলে মানুষের নানা মন্তব্য শুনতে হয় আব্দুর রহমানকে। তবে সেসব কথায় খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না তিনি।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘দুই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করেন। তখন আমি তাদের বলি, অন্যের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখার চেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা উত্তম। আমি আমার দুই স্ত্রীকে সমানভাবে দেখি। তাদের যখন যা প্রয়োজন, সামর্থ্য অনুযায়ী দুজনকেই সমানভাবে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা খুব সুখে আছি।’

তবে একই সংসারে দুই সতীনের বসবাস নিয়ে আশপাশের মানুষের কৌতূহলের কমতি নেই। বাইরে বের হলে কটূক্তিও শুনতে হয় তাদের। কিন্তু এসব কথাকে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সংসার করছেন রুমা ও নাজনীন।

তাদের ভাষ্য, সম্পর্কের এই অস্বাভাবিক সমীকরণ নিয়ে বাইরে যত কথাই থাকুক, নিজেদের সংসারে তারা শান্তিতেই আছেন।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন