© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারত থেকে ফেরার পর জনসমক্ষে আসেননি চীনা প্রেসিডেন্ট, অসুস্থতার গুঞ্জন!

শেয়ার করুন:
ভারত থেকে ফেরার পর জনসমক্ষে আসেননি চীনা প্রেসিডেন্ট, অসুস্থতার গুঞ্জন!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৭ পিএম | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের নৈশভোজে অংশ না নিয়ে অসুস্থতার কারণে দ্রুত দেশে ফিরে গেছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশে ফেরার পর এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারতে গিয়েছিলেন শি। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর অন্য বিশ্বনেতাদের আগেই তিনি চীন ফিরে যান। এর পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা না যাওয়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে।

ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য থেমে শি’র দিকে তাকাচ্ছেন। শি তখন তার বাঁ পাশে বসেছিলেন। ভিডিওতে মোদিকে শি’র উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “সব ঠিক আছে?” এ সময় কয়েকজন সহযোগীকে চীনা প্রেসিডেন্টের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। মোদি আবার একই প্রশ্ন করেন এবং শি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। এরপর মোদি তার বক্তব্য চালিয়ে যান।

তবে বুধবার চীনা সাংবাদিকরা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এর একটি দীর্ঘ ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, শি’র অসুস্থতার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের দাবি, শি’র রিয়েল-টাইম অনুবাদের জন্য ব্যবহৃত ইয়ারপিসে সমস্যা হয়েছিল এবং মোদি সেটি নিয়েই খোঁজ নিচ্ছিলেন।

শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা শুরু হয় গত সোমবার। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান শিয়ে ওয়ানজুন এক্স-এ দাবি করেন, ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি চীনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী শিয়ে আরও দাবি করেন, শি’র গুরুতর ‘ইস্কেমিক স্ট্রোক’ হয়েছিল এবং নয়াদিল্লিতে তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি, চীনে ফেরার পর শি-কে বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিয়ে আরও দাবি করেন, “বিমানে ওঠার সময় শি জিনপিংয়ের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল, তার পদক্ষেপ ছিল টলমলে এবং শরীর বারবার বাঁ দিকে হেলে পড়ছিল।”

তবে এসব দাবির কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মার্কিন সাংবাদিক বিল গার্টজ বুধবার বলেন, শি’র স্বাস্থ্য নিয়ে “গুজব ছড়িয়ে পড়েছে”। এমনকি “প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সেনাবাহিনী গৃহযুদ্ধের জন্য সংগঠিত হচ্ছে”—এমন জল্পনাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গর্ডন চ্যাংও শি’র স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, “শি জিনপিং ভালো নেই। এবার চীন তার শারীরিক অবস্থা গোপন করতে পারেনি।”

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার কার্যালয়। ৭৩ বছর বয়সি রামাফোসাকে অসুস্থতার কারণে সাময়িকভাবে সব ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রামাফোসার অসুস্থতার সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে পরিবেশন করা খাবারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা চলছে। তবে এ দাবিরও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন