দেশে বেহেশতের টিকিট বিক্রি হয়, কিনতে না চাইলেই জাহান্নামি: ফজলুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৪ পিএম | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে জাহান্নামি খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মব্যবসা এক নয়। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে, আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।
এ সময় তিনি ২৪-এর পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমায় মব করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, অন্তবর্তিকালীন সরকারের সময় যখন তারা বলতে লাগলো মুক্তিযুদ্ধই নাকি হয় নাই। মুক্তিযোদ্ধাদের মাফ চাইতে বললো, এর ঠিক তিন দিন পর আমি বলেছিলাম, এই রাজাকার আলবদরের বাচ্চারা, মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হইছে।
ফজলুর রহমান বলেন, আমাকে মেরে ফেলার এমন কোন চেষ্টা নাই যা তারা করে নাই। একদিন ভোরবেলা আমার স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে উঠালো। আমার বাড়িটা তারা চারদিক থেকে ঘিড়ে ফেলেছিলো। মব করে আমায় মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আমি দরজায় দাড়িয়ে ছিলাম মৃত্যুকে গ্রহণ করার জন্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। সেদিন ১০ মিনিটের মাঝে এসে তারা আমায় উদ্ধার করেছিলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কবি কাজী নজরুল বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। নজরুলের এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে পরাজিত করে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছি। নজরুল একজন সত্যবাদী ও প্রকৃত মানুষ। তাই তিনি মরে গিয়েও হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তার এই চেতনার জন্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমা ও সঞ্চালনায় ছিলেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।
এমআই/টিএ