ভাগ্নি মরিয়মের জন্য ন্যায়বিচার চাইলেন এমপি নজরুলের সেই গাড়িচালক
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৩ পিএম | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সন্দেহ করছেন তার মামা ওবায়দুর রহমান। তিনি গাজী নজরুলের সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর ওবায়দুর রহমান ফোনে দেশের একটি গণমাধ্যম অনলাইনকে বলেন, ‘মরিয়ম আমার মেয়ের মতো। ওর লেখাপড়ার সব খরচ আমি দিতাম। এই নজরুলের জন্য আমার সেই মেয়ের এমন অবস্থা হলো। এটা আমি কীভাবে সহ্য করব।’
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর জামায়াত সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের কারণে আজ মরিয়মের এই পরিণতি হলো।
শেষ কয়েক দিন মরিয়মের কী হয়েছিল, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় মানসিক বিষণ্নতা ছিল, নাকি পারিবারিক কলহ ছিল, এসব বিষয়ে কিছু জানেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমি ওদের সঙ্গে আর যোগাযোগই রাখিনি। এতটুকু বলতে পারি, বিয়েটা হয়েছিল জোর করে। গাজী নজরুল যে অনৈতিক কাজ করেছে, এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে গাজী নজরুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ গাজী নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। এটি আসলেই হত্যাকাণ্ড কি না, বা প্ররোচনা ছিল কি না-সেসব বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আরআই/টিএ