দুই নেতার দ্বন্দ্বে বন্ধ সড়ক উন্নয়নকাজ, একাধিক মামলার পর তদন্তে ফেনী বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৭ পিএম | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফেনীতে সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির দুই সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং কাজ চালিয়ে নিতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ চাঁদা দাবির অভিযোগে কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন সাইফুর রহমান রতন ও ঠিকাদার এনায়েত উল্যাহ স্বপন। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসুদ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, একটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও কফিল উদ্দিন মান্নান। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিরোধের সূত্রপাত গত শনিবার। ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতনের প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজের দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। রতনের অভিযোগ, প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই দুটি কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের পর ওই দিনই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে ওই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক অভিযোগ করেন রতন ও ঠিকাদার এনায়েত উল্যাহ স্বপন। পরদিন রোববার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা পৃথক দুটি মামলা করেন। আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী সাইফুর রহমান রতনের অভিযোগ, এর আগেও ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে তাকে মারধর করা হয় এবং বড় বাজার এলাকায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রতনের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর কামরুল হাসান মাসুদ ও তাঁর সহযোগীরা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রতন।
অন্য মামলার বাদী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের শিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিনের সঙ্গেও কামরুল হাসান মাসুদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গালাগাল, মারধরের চেষ্টা এবং হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তবে দুই ঠিকাদারের অভিযোগই অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মাসুদ। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে এবং সেটি তদন্তের জন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। দৌলতপুর-ধলিয়ায় চাঁদা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করে মাসুদ বলেন, তাঁর বাড়ি ফেনী শহরে; ওই এলাকায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগই বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক হওয়ার প্রমাণ।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানিয়েছেন, সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি সাইফুর রহমান রতন তাঁকে জানিয়েছেন। উন্নয়নকাজে যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, চাঁদার দাবিতে সড়কের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুই ঠিকাদার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।