© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৭ এএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে এসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান ও নানা কূটনৈতিক তৎপরতায় নিউইয়র্কে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক বিষয়াবলি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইউএনজিএ-তে অংশগ্রহণের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদল প্রধান ও তাঁদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমে'র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মূল কেন্দ্রে থাকবে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

এদিন সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন তিনি। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন। এছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন' শীর্ষক বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। ওই সেশনের ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে নির্ধারিত ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখবেন। ওইদিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলার ওপর আয়োজিত এক বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়া ছাড়াও তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ভাষণ শেষে রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।

সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স

শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন