© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল: মাখোঁ

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল: মাখোঁ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৯ এএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুরুতে সম্ভবত ঠিকভাবে বোঝা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেছেন, এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের ক্ষমতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এখন প্রণালিটি খুলে দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এবিসি নিউজের ডেভিড মুইরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাখোঁ এসব কথা বলেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

মাখোঁ বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বুঝতে পারে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্ভবত শুরুতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। এখন দ্রুত এর সমাধান করা প্রয়োজন।’

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ফ্রান্স সামরিক সহায়তা দেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মাখোঁ জানান, তিনি কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না। তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সুরক্ষায় ফ্রান্স আরও সক্রিয় হতে প্রস্তুত।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মাখোঁ। তিনি বলেন, বোমা হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সরকার পরিবর্তন করা কার্যকর পদ্ধতি নয়। অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইউরোপীয় মিত্ররা যথেষ্ট সহায়তা করছে না। এর জবাবে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান করে এবং নিজেদের ভালো মিত্র হিসেবে মনে করে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন মাখোঁ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউরোপের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব নেই- এমন বক্তব্য তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানান।

মাখোঁ বলেন, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার মতে, ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পেয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি ও অন্য কয়েকজন নেতা কাজ করেছেন বলেও জানান মাখোঁ। তার মতে, তারা ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয় মাখোঁকে। ওই মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার বড় একটি অংশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখানো হয়েছিল।

মাখোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে একাধিকবার বলেছেন যে বিষয়টি অদ্ভুত। তার মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। তাই নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা তৈরি না করাই উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন আশঙ্কাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন মাখোঁ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা ও নতুন নিয়মকানুন তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন