১২৩ বছর পরও অম্লান নবাব ফয়জুন্নেছা, কুমিল্লায় স্মরণ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০০ পিএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লায় যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে সমাজ সংস্কার ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত, উপমহাদেশের প্রথম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিস রোজী আকতার।
নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোখসানা ফেরদৌস মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, নারী নেত্রী জে এন লিলি, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, ফয়জুন্নেছা ফাউন্ডেশনের আজাদ সরকার লিটনসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
আলোচকরা বেগম ফয়জুন্নেছা চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন, নারী শিক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদান এবং সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নবাব ফয়জুন্নেছাকে প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করতে একটি দিবস ঘোষণারও দাবি জানান ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল।
আজাদ সরকার লিটন বলেন, ফয়জুন্নেছা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে তাঁর ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরতে। তৎকালীন সময়ে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংবলিত সেই সময়কার ইংরেজি সংবাদপত্রের কপির উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য দেন আবুল কাশেম হৃদয়। তিনি এসংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন।
সাজ্জাদুল কবীর বলেন, আজকাল নারীরা শিক্ষাগ্রহণসহ যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, ফয়জুন্নেছা নবাব পরিবারের সদস্য হয়েও তা পাননি। জে এন লিলি বলেন, বিগত দিনে ফয়জুন্নেছাকে নিয়ে তেমন কিছু করা হয়নি, অন্ততপক্ষে একটা ম্যুরাল করা যেত। বর্তমান সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হাত ধরে কিছু কাজ হবে বলেও তিনি আগাম বার্তা দেন।
সত্তরের দশকে কুমিল্লায় ফয়জুন্নেছাকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে লেখক ও গবেষক আবদুল কুদ্দুসের কল্যাণে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তব্য দেন আবুল হাসানাত বাবুল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু দাদার বাবার নামও মনে রাখি না। কিন্তু একজন নারী কতটা সমাজসচেতন হলে তাঁকে নিয়ে আমরা কথা বলছি তাঁর মৃত্যুর শত বছর পরেও!
প্রধান শিক্ষক রোখসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, তিনি যে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তা-ই নয়, তিনি যেখানে গেছেন সেখানেই ছাপ রেখেছেন—চিকিৎসায়, সমাজসেবায়, দেশে এবং দেশের বাইরেও। প্রাচীন জেলা কুমিল্লার ২৩৫ বছরের ইতিহাসে নিজেকে সৌভাগ্যবান প্রথম নারী জেলা প্রশাসক উল্লেখ করে মিজ রোজী আকতার বলেন, নবাব ফয়জুন্নেছাদের অবদানের কারণেই নারীরা আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছেন।
এ সময় জেলা কালচারাল অফিসার এস টি এম কামরান হাসান, বিনয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মাহবুব, আমার শহর পত্রিকার সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ, বিএনপি নেত্রী কামরুন নাহার দিপুসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহীয়সী এই নারীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এসএন