© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বিকল্প নেই: সম্মেলনে বক্তারা

শেয়ার করুন:
সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বিকল্প নেই: সম্মেলনে বক্তারা
মোজো ডেস্ক
০৮:১৭ পিএম | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ধর্মীয় বিবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাড়াতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের মতে, এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে তৈরি সচেতনতা এবং ধর্মীয় নেতাদের সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে সম্ভাব্য অনেক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাই সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশান-২-এর লেকশোর হোটেলে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের আয়োজনে ‘সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তির বাংলাদেশ: আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)’ প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’।



অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল এবং অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শান্তির দূত হিসেবে প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, এমপি বলেন, সব ধর্মেই শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার কথা বলা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

আন্তঃধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগের জন্য দি হাঙ্গার প্রজেক্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।



সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার লুইস বেনন, শিক্ষক ও গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, ঢাকা আর্চডায়োসিসের ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়লগ কমিশনের কো-কোঅর্ডিনেটর সিস্টার রেবা ভেরোনিকা ডি’কস্টা এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়।

সম্মেলনের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক মাহমুদুল এইচ সুমন। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম, স্পেস-এর ভাইস-চেয়ারপারসন ও মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, আইএফইএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ এবং সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের সমন্বয়কারী ইমরান হোসেন তুষার।

এ ছাড়া সম্মেলনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন, শিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রকল্প এলাকার শান্তি সহায়ক দলগুলোর নেতারা অংশ নেন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ২৭টি জেলার ৭৪টি উপজেলায় এমআইপিএস প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি), তরুণ শান্তিদূত, নারী শান্তি সহায়ক এবং জাতীয় আন্তঃধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সম্প্রীতি প্রসারে কাজ করছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন