ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনমিছিলে ব্যবহারের জন্য মুখোশ ও ককটেল সংগ্রহ করেছিলেন যুবলীগ নেতা ইমন
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৯ পিএম | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমন যুবলীগ নেতা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকা থেকে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পর ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো কস্টেপ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা কাগজের তৈরি তিন কার্টুনে মোট ৯ হাজার পিস মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে।
মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার জাহিদ হাসান ইমন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এসব পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময় মিছিলে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিলো।
তিনি আরও জানান, জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
এমআই/টিএ