জাতিসংঘে শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৫ পিএম | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শেহবাজ শরিফ ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন এবং কাশ্মীর ইস্যুও তুলে ধরেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ‘রাইট অব রিপ্লাই’ নিয়ে জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান একাডেমির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।’
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে গেহলট বলেন, ভারত গত বছর দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালানোর বা লুকানোর জায়গা থাকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে ২০২৫ সালের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে শেহবাজ শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে আবার সেই পরিস্থিতির দিকে যাওয়া থেকে ঠেকাতে কাশ্মীর সমস্যার ‘ন্যায্য ও ন্যায়সংগত’ সমাধান প্রয়োজন।
এর জবাবে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকেও দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
এছাড়াও পাকিস্তানের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বক্তব্যেরও সমালোচনা করে ভারত। গেহলট পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাবের অভিযোগ তোলেন এবং দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শেহবাজ শরিফ তার ভাষণে সিন্ধু নদের পানি নিয়েও সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের পানির অংশ বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে সরানোর যেকোনো চেষ্টা ‘যুদ্ধের কাজ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারত এর আগে পাহেলগামে হামলার পর সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এমআর/টিএ