বাংলা সাহিত্যের 'সব্যসাচী লেখক' সৈয়দ শামসুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১২ পিএম | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য লেখক সৈয়দ শামসুল হকের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বহুমাত্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে পরিচিত এই সাহিত্যিক কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও গান- সাহিত্যের নানা শাখায় রেখেছেন অনন্য অবদান।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ শামসুল হক পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা। লেখালেখির পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘মধুমিলন’, ‘কখগঘঙ’, ‘বিনিময়’, ‘মাটির মায়া’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ও ‘গেরিলা’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও তার ছিল নিবিড় সম্পৃক্ততা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বিবিসিতে প্রচারিত বাংলা খবর পাঠ করেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। তার কণ্ঠে সেই ঐতিহাসিক দিনের সংবাদ পাঠও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
গীতিকার হিসেবেও সৈয়দ শামসুল হক অর্জন করেছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তার লেখা ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘নদী বাঁকা জানি’, ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস’ ও ‘অনেক সাধের ময়না আমার’সহ বেশ কিছু গান মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। সময় পেরিয়ে গেলেও তার লেখা এসব গান এখনো শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে পরিচিত।
১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক ছিলেন তার জীবনসঙ্গী। তাদের এক কন্যা বিদিতা সৈয়দ হক ও এক পুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক। মৃত্যুর এক দশক পরও বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন সৈয়দ শামসুল হক।
এসএ/এসএন