প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা স্মরণ করলেন ভারতের সেনাপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩০ পিএম | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ বলেছেন, প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে যুদ্ধের লড়াইকে সংক্ষিপ্ত করছে, তবে তা যুদ্ধকে অবশ্যই সংক্ষিপ্ত করছে—এমন নয়। আর স্থলভাগে বিজয়ই যুদ্ধের বিজয়ের একমাত্র অনস্বীকার্য সূচক।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের যুগেও মাটিতে সেনাদের উপস্থিতির মাধ্যমে অর্জিত বাস্তব বিজয় কেন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ নিয়ে আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক গোলাবর্ষণের মতো তথ্য ছড়িয়ে পড়তে দেখি। তথ্যের বয়ান ও যুদ্ধের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে, যা প্রকৃত যুদ্ধের চিত্রকে আড়াল করে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে...’
‘তবে আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই সব কিছুর ভিড়েও একটি বাস্তবতা বদলায় না—স্থলভাগই সবসময় সাফল্যের একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর মাপকাঠি থাকবে। বিজয় অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও ভূখণ্ডের দখলের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হবে। আর সেই ভূখণ্ড দখল, সুরক্ষিত রাখা ও প্রতিরক্ষা করবে একমাত্র বাহিনীই।’
এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের (মুক্তিযুদ্ধ) শেষে তোলা একটি ছবির কথা স্মরণ করেন, যেখানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়।
ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজ আমি এ বিষয়টি উল্লেখ করছি, কারণ ওই ছবিটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দেখিয়েছিল। কারণ, সেটিই ছিল যুদ্ধ শেষ হওয়ার সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত। কিন্তু এখন এমন কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্ত নেই, এমন কোনো সমাপ্তির বিন্দু নেই, যা শত্রুতা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।’
‘সংঘাতের সময়কাল ক্রমেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের বিচ্ছিন্ন পর্ব দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে লড়াইকে সংক্ষিপ্ত করছে, কিন্তু তা যুদ্ধকে অবশ্যই সংক্ষিপ্ত করছে—এমন নয়। এই সহস্রাব্দের যুদ্ধগুলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে ‘বিরতিসহ যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, বিরতি সামরিক কৌশলের একটি অংশ হয়ে উঠছে। এই বিরতি সংঘাতের ওপর আধিপত্য বোঝায় না, বরং এর তীব্রতা ও ধরনে পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।’
জেনারেল শেঠ বলেন, এই প্রবণতা এতটাই স্পষ্ট যে এটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে আনে—আত্মনির্ভরতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ সংকট দীর্ঘায়িত হলে আত্মনির্ভর হওয়াই এমন একটি বিষয় হবে, যা বিজয়ী ও পরাজিতের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবে।
এনডিটিভির বার্ষিক এই প্রতিরক্ষা সম্মেলনেধীরাজ শেঠবলেন, ‘আত্মনির্ভরতার অর্থ হতে হবে এমন সক্ষমতা নিশ্চিত করা, যাতে অন্যরা কী দিতে পারবে বা পারবে না, তার ওপর নির্ভর করে আমরা সীমাবদ্ধ না হয়ে টিকে থাকতে পারি। আর এ কারণেই নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার পথগুলোকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
আরআই/টিএ