সরকার বেহেশতের গ্যারান্টি দেবে না, উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৯ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান সরকার বেহেশতের গ্যারান্টি দেবে না, তবে এই সরকার উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৭ মাস হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে যাচ্ছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ত্রিমোহনী খাল ব্রিজে খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিরানি খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
রাজধানী ঢাকাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বড় চিন্তা রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একদিনে দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না, জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা মানুষের ভোটের চিন্তা না করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নগর পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
মীর শাহে আলম বলেন, ডিএসসিসির ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে খালের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি অবৈধ দখল ঠেকানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য হাঁটা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর পয়োবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কাজে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডিএসসিসির নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।
৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে। ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ৭০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে সরকার এবং ৩০ শতাংশ দিচ্ছে ডিএসসিসি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি।
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজের অগ্রগতি ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালগুলোর পাড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ রোধে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেএন/টিএ