সিঙ্গাপুরকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের ছিল: কোচ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৯ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের হতাশার পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারতে হয়েছে জামাল ভূঁইয়াদের। তবে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখেছেন কোচ। তার মতে, সিঙ্গাপুরকে হারানোর সামর্থ্য ছিল বাংলাদেশের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘আজ আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে, সেটিও আপনারা দেখেছেন।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তা কাজে লাগানো যায়নি। এ প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘শেষ ২০ মিনিটে যদি আমাদের গোল করার সুযোগগুলো কাজে লাগত, তাহলে হয়তো ফলাফল আমাদের পক্ষে আরও ইতিবাচক হতে পারত। সমিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল, কিন্তু সে হেড মিস করেছে।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ ছিলেন কোচ। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের লড়াইয়ে সন্তুষ্ট তিনি। তার ভাষায়, ‘আমরা ১১ জন খেলোয়াড় নিয়েই লড়েছি, আগের ম্যাচের মতো নয়। সবাই বুঝতে পেরেছে, লড়াই করলে এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।’
বাংলাদেশের বড় সমস্যা গোল করা বলেও মনে করেন কোচ। তার মতে, দলে এখনও এমন কোনো নিখুঁত স্ট্রাইকার নেই, যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত গোল এনে দিতে পারে। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে উন্নতির অন্যতম কারণ হিসেবে বল দখলে রেখে খেলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কোচ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত লং বল খেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই দল বলের দখল রেখে খেলুক। দাবা খেলার মতো ফুটবলেও পরিকল্পনা করে খেলতে হয়—পরবর্তী দুই-তিন সেকেন্ডে কী হবে, সতীর্থরা কোথায় আছে, তা স্ক্যান করতে হয়।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি।
নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি।’
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও ইতিবাচক কিছু শেখার প্রত্যাশা কোচের। তার আশা, এই অভিজ্ঞতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাজে লাগবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশকে আবারও সাফ শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে দেবে।
আরআই/টিএ