ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড়ে নিয়ে যান মোজাফফর হোসেন: প্রসিকিউটর জোহা
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৪ এএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হত্যার পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লাশ মোজাফফর হোসেন পাহাড়ে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন নিজেই এ কথা বলেছেন বলে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন তিনি।
তানভীর হাসান জোহা বলেন, মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সাবেক) মতিউর রহমান তাকে জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন তারা।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন এ কথা বলেছেন বলে জানান প্রসিকিউটর তানভীর হাসান।
তানভীর হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর তার লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে (মোজাফফর) নির্দেশ দেন মতিউর রহমান। তার নির্দেশে সকাল ১০টার দিকে সৈনিকদের নিয়ে সার্কিট হাউসে যান মোজাফফর। জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে পাহাড়ে যান। তবে জিয়াউর রহমানের লাশ তিনি পাহাড় থেকে ফেলেননি। একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন। এটা যে রাষ্ট্রপতির লাশ, তা ইমামকে তারা বলেননি।
মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট আছে বলে জানান প্রসিকিউটর তানভীর হাসান।
এনআইডি ও পাসপোর্ট থাকার তথ্য মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মোজাফফর। এর আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোজাফফর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কোনো কারণে পাচ্ছিলেন না। সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত দেখা করার ব্যবস্থা করেন। মোজাফফরকে মিল্লাত বলেছিলেন, একটা বিয়ে আছে, সেখানে শেখ হাসিনা আসছেন। পরে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন মোজাফফর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে মোজাফফর স্যালুট দেন। পরে তিনি কী করবেন, তা জানতে চান। তখন শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য বলেছিলেন। শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ করার পরামর্শও দেন। পরে মোজাফফর আত্মসমর্পণ করেন। সেনা সদর থেকে একটি চিঠিও যায়। যাওয়ার পর কোনো কারণে মোজাফফরের যোগদান গ্রহণ হয়নি কিংবা দেরি হচ্ছিল। তখন বাংলাদেশে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে ঢুকে পড়েন মোজাফফর।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই মেজর মোজাফফর হোসেনকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরআই/টিএ