ইবিতে বাসকাণ্ডে ফের সংঘর্ষ, আহত অনেকেই
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৮ পিএম | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাবল ডেকার বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারিকে কেন্দ্র করে আইসিটি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আইসিটি বিভাগের তিন শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বাংলা বিভাগের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচতলার করিডোরে আইসিটি এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ক্যাম্পাসজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি ডাবল ডেকার বাসে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগের আবু সাঈদ এবং বাংলা বিভাগের রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও তার বন্ধুদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে দুজনেই আহত হন। এনিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়।
ওই ঘটনার জেরে আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক সমঝোতা সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় উভয় বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়। সভাস্থল থেকে থেকে নিচে নামার পর আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে আইসিটি বিভাগ থেকে মাত্র ৮/১০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩ জন শিক্ষক মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় বাংলা বিভাগ থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসের নিচে জড়ো হয়। সভা শেষে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলা থেকে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি তারেক হাসান আল মাহমুদ ও শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এগিয়ে গেলে সংঘর্ষে আহত হয। এছাড়া আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত লে ইবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। পরে প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন তারা।
এদিকে ঘটনার পরপরই জরুরি একাডেমিক বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ঘটনার ফুটেজ ও ছবি দেখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে কঠোর একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান বিভাগটি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন।
এফআর/এসএন