© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যাত্রীদের ফেরাতে বিমান পাঠানোর অনুরোধ ইসরাইলের, প্রত্যাখ্যান করল সৌদি

শেয়ার করুন:
যাত্রীদের ফেরাতে বিমান পাঠানোর অনুরোধ ইসরাইলের, প্রত্যাখ্যান করল সৌদি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৫ পিএম | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের ইসরায়েলি যাত্রীদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন উড়োজাহাজ পাঠানোর ইসরায়েলি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। বুধবার দুটি নিরাপত্তা সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ওই দুই সূত্র বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে আটকে পড়া ইসরায়েলিদের ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের কাছে সামরিক বিমান পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে ইসরায়েল।

একটি সূত্র বলেছে, ওই যাত্রীদের উদ্ধার করে আনতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সুপার হারকিউলিস বিমান পাঠানোর প্রস্তুত নিয়েছিল। তবে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ বলেছে, যাত্রীরা পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে করেই তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের প্রধান পাইলটকে সহ-পাইলট ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে যাত্রীরা তাকে বলপ্রয়োগ করে নিবৃত্ত করেন এবং অন্য দুই পাইলট উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।

এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে নেতানিয়াহু বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত হামলাকারী ওমানের নাগরিক বলে ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা শনাক্ত করেছেন। উড়োজাহাজটি অবতরণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন।

এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, সব যাত্রী আপাতত বিপদমুক্ত আছেন। উড়োজাহাজের প্রায় সব যাত্রীই ছিলেন ইসরায়েলি।

ইসরায়েলের এই প্রধানমন্ত্রী এক যাত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রী এবং বিমানের এক কর্মী ককপিটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা দেখতে পান, কো-পাইলট উড়োজাহাজের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, তারা বহু জীবন বাঁচিয়েছেন। একটি বড় ধরনের দুর্যোগ প্রতিহত করেছেন।

এর আগে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, উড়োজাহাজটি থেকে জরুরি বিপদের সংকেত পাঠানো হয়েছিল। বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানোর আগে উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে হঠাৎ দ্রুতগতিতে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।

উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে অবতরণের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে বলেছিলেন, ঘটনাটিকে ছিনতাই বলে মনে করা হচ্ছে না। এটি একটি ভিন্নধর্মী ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ইসরায়েলের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী ঘটনাটি ছিল একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা এবং এর সঙ্গে দুই পাইলটের কারও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্পর্ক নেই।

সূত্র: রয়টার্স

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন