© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ড্যাফোডিলে শেষ হলো ২ দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর

শেয়ার করুন:
ড্যাফোডিলে শেষ হলো ২ দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর
মোজো ডেস্ক
১২:১০ এএম | ০১ অক্টোবর, ২০২৬
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ডিআইইউয়ের সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ, জেএমসি বিভাগের আয়োজনে এবং ইয়ামাহার পৃষ্ঠপোষকতায় দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি, ডিএসসিতে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, বিশেষ কর্মশালা, প্যানেল ডিসকাশন, স্পটলাইট পিচ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এবারের মিডিয়া বাজের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং’। আয়োজনের প্রথম দিন ২৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় ‘ন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘এনভায়রনমেন্ট অব বাংলাদেশ’। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্যময় দৃশ্য ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে ধরেন এবং তাদের তোলা বাছাইকৃত আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।



ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় বিচারক ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার ও ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট সুদীপ্ত সালাম এবং ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব ফটোগ্রাফি মো. মাহমুদ জামান অভি। পর্বটি সঞ্চালনা (মডারেট) করেন ফটোগ্রাফার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তাজিম উদ্দিন (চট্টগ্রাম), দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মো. ইমরান পারভেজ (পটুয়াখালী) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. রাকিবুল হাসান।

প্রথম দিনের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘সিকিওরিং ইউর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল উপস্থিতি ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। প্রথম দিনের আয়োজন শেষ হয় জেএমসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।



উৎসবের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিন ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বিষয়ক বিশেষ প্যানেল ডিসকাশন ‘দ্য নিউ এরা অব অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ইন দ্য এইজ অব এআই’ এবং ‘ইয়ামাহা প্রেজেন্টস দ্য স্পটলাইট পিচ’ প্রতিযোগিতা। এই পর্বে প্রধান আলোচক ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম ফারহান চৌধুরী এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও খ্যাতিমান নির্মাতা পিপলু আর. খান।

আলোচনায় নাজিম ফারহান চৌধুরী বলেন, “কনটেন্ট দেখার ধরন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এতে ব্র্যান্ডগুলোর সামনে সঠিক ভোক্তার কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

পিপলু আর. খান বলেন, “আগামী কয়েক বছরে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং অঙ্গন বিক্ষিপ্ত ও অগোছালো অবস্থা থেকে বেরিয়ে আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক একটি শিল্পে রূপ নেবে।”



আয়োজন সম্পর্কে ডিআইইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আর. কবির বলেন, “মিডিয়া পেশাজীবীদের জন্য শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন এর বাইরেও নানা দক্ষতা। জেএমসি মিডিয়া বাজ একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও নেটওয়ার্কিংয়ের চর্চা গড়ে তুলছে।”

ডিআইইউর ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন প্রফেসর ড. লিজা শারমীন বলেন, “জেএমসি মিডিয়া বাজের শুরুর দিক থেকেই আমি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর আজ, এর সপ্তম আয়োজনকে ঘিরে সত্যিই এটি একটি উদ্‌যাপনে পরিণত হয়েছে। জেএমসির সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও টিমের সদস্যদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।”

জেএমসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আব্দুল কাবিল খান বলেন, “পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতেই আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। এবারের আসরে আলোকচিত্র, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞাপন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের মতো সময়োপযোগী বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করবে।”

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের শেষ দিনে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আর্বোভাইরাস’ ও ‘আফটারম্যাথ’। তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামে জেএমসি মিডিয়া বাজের সপ্তম আসরের।

এমআর/টিএ

মন্তব্য করুন