সবাইকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে চাইনি- নরেন্দ্র মোদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের সেই পাইলট
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৭ পিএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে সহকারী পাইলটের প্রাণঘাতী ও নৃশংস আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন, কেবল নিজের জন্য নয়, বিমানে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মারা যেতে দিতে পারতেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই ও দুর্ঘটনার চেষ্টার পর শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন এই পাইলট।
মোদিকে সেই নাটকীয় মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্মিত মাচ্ছার বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি আমার জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এত মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত ও আহত হয়েছিলাম যে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন ভাবছিলাম, আমি যদি আর উঠতে না পারি তবে কি হবে?’
ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে মাঝ আকাশে সৃষ্টি হওয়া এই ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে, কারণ পাইলট স্মিত মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীরা সাহসিকতার সঙ্গে ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারী সেই সহকারী পাইলটকে কাবু করেন।
পরবর্তীতে বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। হামলায় গুরুতর আহত স্মিত মাচ্ছারের ককপিটে পড়ে থাকার দৃশ্যটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ছিল; রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট আর তিনি যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে আংশিক মাস্ক পরা অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
নরেন্দ্র মোদিকে স্মিত জানান, মেঝেতে পড়ে থাকার সময়ই তিনি উপলব্ধি করেন যে বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে পড়ছে। মচ্ছার সেই আবেগঘন মুহূর্ত স্মরণ করে বলেন, ‘ঠিক সেই মুহূর্তে আমি মনে মনে ভাবলাম, শেষ আরেকটা চেষ্টা স্মিত! শুধু এইটুকু করো, দরজাও তো একদম কাছেই।
অথচ তখনো সে আমাকে অনবরত মারধর করে যাচ্ছিল। এরপর আমি কোনোমতে উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিই এবং সঙ্গে সঙ্গে সবাই ভেতরে চলে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে আমি এটাও জানতাম যে আমি সবাইকে এভাবে মারা যেতে দিতে পারি না।’
পাইলট মচ্ছারের এমন অভূতপূর্ব বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন নরেন্দ্র মোদি। অভিজ্ঞ এই পাইলটকে মোদি বলেন, ‘আপনার সাহস, ধৈর্য এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই আজ এতগুলো মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। আপনি নিজে জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই জয় ছিনিয়ে এনেছেন।’
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত মচ্ছার। জরুরি অবতরণের পর প্রাথমিকভাবে সৌদি আরবে তার চিকিৎসা করা হয়েছিল। বিমানে থাকা যাত্রী ও পেশায় দন্তচিকিৎসক শোটা মুসায়েভ পূর্বে সিএনএন-কে জানান যে স্মিত মাচ্ছার প্রচুর রক্তক্ষরণের শিকার হয়েছিলেন এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন।
এমআর/টিএ