জটিলতা কাটিয়ে আজ আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৪ পিএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) বাংলাদেশে আসছে আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর)।
রাশিয়া থেকে কার্গো বিমানে করে জ্বালানির চালানটি দুপুর নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তা সরাসরি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পরিবহন-সংক্রান্ত জটিলতায় সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফা জ্বালানি আসার সময় পিছিয়ে যায়।
বাংলাদেশে রোসাটমের প্রেস কনসালটেন্ট প্রধান ড. ফরহাদ কামাল জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ রূপপুরের জ্বালানি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে।
তবে ইউরেনিয়াম কোন রুটে বাংলাদেশে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নির্ধারিত আকাশপথে কোনো জটিলতা দেখা দিলে চীন হয়ে বিকল্প পথে জ্বালানি আনার প্রস্তুতিও রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (বায়রা) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, নির্ধারিত রুটে অনুমতি না পাওয়া গেলে চীন হয়ে বিকল্প পথে জ্বালানি আসতে পারে। যে পথেই আসুক, জ্বালানি গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, প্রথম ইউনিটের জন্য ১২ টিপিএস ইউরেনিয়াম নিয়ে ১ অক্টোবর রাশিয়া থেকে কার্গো বিমানের উড্ডয়নের কথা ছিল। কোন পথে কীভাবে এটি বাংলাদেশে আসবে, সেটি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপদে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সেই অতিরিক্ত জ্বালানিই এবার বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি পরিবহনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি আসার পাশাপাশি রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক প্রেশার রিলিফ ভালভের প্রথম ধাপের পরীক্ষা সফল হয়েছে। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে এ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এখন ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেষ ধাপের এই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরুর পথে আর বড় কোনো কারিগরি বাধা থাকবে না।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি দেশে পৌঁছানো এবং গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এমআর/টিএ