ইয়েমেন সরকারের কাছে ৪ কার্গো বিমানবোঝাই অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৮ পিএম | ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
ইয়েমেনে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির ব্যাপক অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে চারটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও হালকা কামানসহ এসব অস্ত্র গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতে পাকিস্তানের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে হুতির বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বর্তমানে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াই চলছে; যার মূল উদ্দেশ্য উত্তরের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বন্দরনগরী এডেনকে বিচ্ছিন্ন করা। সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার সম্প্রতি ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে দেড় সহস্রাধিক হুতি যোদ্ধা হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে হুতিরাও রিয়াদ বিমানবন্দর ও মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইয়েমেনের চলমান এই সংঘাতকে গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সরাসরি মদদপুষ্ট হুতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপে রিয়াদের সাথে মিত্রতার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও পাকিস্তান ও তুরস্ককে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, হুতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য অবস্থান না থাকলেও প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে তারাও পাকিস্তানের মতোই অস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। হুতিদের মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে সৌদি আরব এখন নতুন মিত্র খুঁজছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পুরোনো বিরোধ মিটিয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ।
আরআই/টিএ