জাইমার জাতিসংঘে চাকরিতে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহ্দী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪০ এএম | ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন, এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জাইমা রহমান বাংলাদেশ সরকারের কোনো পদে কিংবা জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনে নিয়োগ পাননি। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ তার নিয়োগ দিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।
জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, তিনি জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতায় ও নিজ মেধারভিত্তিতে একটি চাকরি পেয়েছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে চাকরিটি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উনি নিজের যোগ্যতায়, নিজ মেধার ভিত্তিতে একটা চাকরি পেয়েছেন, যেটার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এই চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেটাও আরেকটা মিথ্যাচার।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনেও জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে একই বক্তব্য দিয়েছিলেন মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে জাইমা রহমান লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নিয়োগটি জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম, বিধি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে বলে জানান তিনি।
পি-৩ পদে নিয়োগ, প্রয়োজন পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান যে পদে আবেদন করেছেন সেটি জাতিসংঘের পি-৩ পর্যায়ের পেশাগত পদ। এ ধরনের পদে সাধারণত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের পি-১ হচ্ছে প্রফেশনাল লেভেল-১, যা নতুন গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চাকরি। পি-২ পর্যায়ে দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এরপর পি-৩ পর্যায়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ এবং আরও উচ্চপর্যায়ের পদ রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে পি-৩ পর্যায়ের পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং আর্থিক সুবিধা সবকিছু জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
জাইমা রহমানের নিয়োগে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের প্রভাব বা সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের নির্বাহী কার্যালয়ের অধীন মানবসম্পদ টিমই নিয়োগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের রুলস, রেগুলেশনস এবং প্রসিডিউর অনুযায়ী যে এক্সিকিউটিভ অফিস রয়েছে, তার অধীনে যে হিউম্যান রিসোর্স টিম রয়েছে, তারাই সব ধরনের রিক্রুটমেন্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
জাইমা রহমানের নিয়োগের বিষয়টি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে যাচাই করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, জাইমা রহমান বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবেও জাতিসংঘে যাননি। তিনি নিজের পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করছেন।
সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানো ঠিক নয়
জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন মানুষ আন্তর্জাতিক পরিসরে জায়গা করে নিয়েছেন। তার পেশাগত ক্যারিয়ারের বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে দেখা বা অপপ্রচার চালানো কাম্য নয়।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সত্য তথ্যের ভিত্তিতে সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু সত্যকে বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো রাজনীতির সংস্কৃতি হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকেই চাই গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক, যা সত্য ও ন্যায্য, সেটাকে তুলে ধরা হোক। আর যেটা অনৈতিক বা অন্যায্য, সেটাকেও নির্মোহভাবে তুলে ধরা উচিত।
এফআর/এসএন