© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়‘জনগণ আমাদের চায় না, দল চেয়ারে বসিয়েছে তাই দলীয় লোকই প্রাধান্য পাবে’

শেয়ার করুন:
‘জনগণ আমাদের চায় না, দল চেয়ারে বসিয়েছে তাই দলীয় লোকই প্রাধান্য পাবে’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৩ এএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
‘আপনারা একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না। দল আমাদেরকে নিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছে। এই এলাকার মানুষ আমাদেরকে চায় না।... সেই জন্য আমরা এলাকার মানুষের চাইতে দলের মানুষকে প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামানের এমন একটি বিস্ফোরক ও বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে শরীফুজ্জামানকে চরম দলীয় পক্ষপাতমূলক বার্তা দিতে শোনা যায়। তিনি সাফ জানান, জেলা পরিষদের কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ বা সরকারি অনুদান সাধারণ নাগরিকরা সহজে পাবেন না। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার দলের নেতা–কর্মীর বাইরে কোনো অনুদান জেলা পরিষদ থেকে যাবে না। এই ইউনিয়নে যেকোনো জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি অথবা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি–সেক্রেটারির রিকমেন্ড (সুপারিশ) ছাড়া একটি অনুদানও মিলবে না।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সময় তার সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হন এই মো. শরীফুজ্জামান। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমীন। নির্বাচনে দলের এমন বিপর্যয়ের পরই জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ থেকে তার এ ধরনের বক্তব্য সামনে এল।

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন